PDF Booksবাংলা
Trending

আত্মজা ও একটি করবী গাছ গল্পের বিষয়বস্তু, মূলভাব pdf

আজকের আলোচনার বিষয় আত্মজা ও একটি করবী গাছ গল্পের বিষয়বস্তু মূলভাব নিয়ে তাহলে চলুন শুরু করা যাক।

আত্মজা ও একটি করবী গাছ গল্পের মূলভাব বিষয়বস্তু

হাসান আজিজুল হকের একটি অসামান্য নির্মাণ। অভিন্ন নামের গল্প-সংকলন ‘আত্মজা ও একটি করবী গাছ’ (১৯৬৭) গ্রন্থে এটি গ্রথিত। উদ্বাস্তু ছন্নছাড়া এক শরণার্থী বৃদ্ধের জীবনযাপনের মর্মদাহী এক বৃত্তান্ত ‘আত্মজা ও একটি করবী গাছ’। বস্তুতপক্ষে, বক্ষ্যমাণ গল্পে তেমন কোনাে কাহিনি নেই। গ্রামের তিন বখে-যাওয়া যুবক দেশছাড়া এক বুড়াের কন্যাকে ভােগের আকাঙ্ক্ষায় বেরিয়েছে, পৌছেছে তারা বুড়াের বাড়িতে এবং অর্থের বিনিময়ে স্ত্রীকে শাসন করে বুড়াে দুই যুবককে পাঠিয়ে দিলাে আত্মজার ঘরে-এই-ই হচ্ছে বক্ষ্যমাণ প্রতিবেদনের মৌল ঘটনাংশ।

আত্মজা ও একটি করবী গাছ গল্পের বিষয়বস্তু, মূলভাব pdf

গল্পের ঘটনাস্রোত এগিয়ে চলেছে চরিত্রের মনোেলােকে-কখনাে এনাম-ফেকু-সুহাস, কখনাে-বা কেশাে বুড়াের মনােলােকের ক্রমভঙ্গুর ভাবনায় এগিয়ে চলেছে শিল্পিতা পেয়েছে আলােচ্য গল্পের ঘটনাংশ। ইনাম-ফেকু-সুহাস-তিনজনই বখে যাওয়া যুবক, অর্থের বিনিময়ে কেশাে বুড়াের আত্মজা রুকু-কে ভােগ করতে তারা রাতের আঁধারে বেরিয়েছে, উদ্দেশ্য তাদের কেশাে বুড়াের বাড়ি। কিন্তু যাত্রাপথে সে-কথা কেউ-ই বলছে , বলছেন না লেখকও। বরং উল্টোভাবে দেখি নানা ভাবনায়, কখনাে এককভাবে, কখনাে সম্মিলিত-স্রোতে ভগ্নক্রম বিন্যাসে সময় এগিয়ে চলে, এগিয়ে চলে তিন যুবকের শীতরাত্রির অভিসার। রুকুকে ভােগ করার জন্য তিন যুবকের যাত্রা তাদের ভাবনায় কখনােই ধরা দেয়নি-নাকি কৌশলে তাদের মনস্তাত্ত্বিক উত্তেজনা দূর করতে চেয়েছেন ভগ্নক্রম কথা-বুননের ছলে? ইনাম-ফেকু-সুহাস কথা বলছে পরস্পরের সঙ্গে-কিন্তু কেউ-ই শুনছে না অন্যের কথা, কারণটা তাদের অন্তর্গত উত্তেজনা ও উৎকণ্ঠা, নাকি সুখ-কল্পনা?

ভগ্নক্রম বিন্যাসে, চূর্ণ-চূর্ণ ছবির মাধ্যমে লেখক তুলে ধরেছেন ইনাম-ফেকু-সুহাসের অন্তর্গত ভাবনায়। কেশাে-বুড়াে উদ্বাস্তু মানুষ, দেশ-ছাড়া অসহায় এক পিতা। চরিত্রসমূহের ভাষা থেকে বুঝা যায়, এদের বাস উত্তরবঙ্গে। পক্ষান্তরে কেশাে-বুড়াে শুকনাে-দেশ (পশ্চিমবাংলা কি?) থেকে এসেছে সে-অঞ্চলে। বুঝা যায় দেশবিভাগের পটভূমিতে লেখা এই গল্প। দেশবিভাগ মানুষকে, বাংলার জনসাধারণকে যেভাবে বিপন্ন উনূলিত লাঞ্ছিত করেছে, তারই যেন প্রতীকী রূপ কেশাে-বুড়াে। দেশত্যাগের ফলে শূন্য হয়ে গেছে। তার ভিতর বাহির-আত্মজাকেও তাই তার কাছে মনে হয়েছে বিষবৃক্ষের বীজ। দেশত্যাগের এই মর্মদাহী যন্ত্রণাকথা উঠে এসেছে। কেশাে-বুডাের অন্তর্গত ভাবনায়- “কে আর আসবে এখানে মরতে। জেগেই তাে ছিলাম। ঘুম হয় না মােটেই-ইচ্ছে করলেই কি আর ঘুমানাে যায়-তার একটা বয়েস আছে-অজস্র কথা বলতে থাকে সে-মনে হয় না, বাজে কথা বকবক করেই যায় । এসাে বড্ড ঠাণ্ডা হে, ভেতরে এসাে। কিন্তু ভেতরে কি ঠাণ্ডা নেই? একই রকম। দেশ ছেড়েছে যে তার ভেতর বাইরে নেই। সব এক হয়ে গেছে। তােমরা না থাকলে না খেয়ে মরতে হােত এই জংগুলে জায়গায়-বুড়াে বলছে, বাড়ির বাগান থেকে অন্ন জোটানাে আবার আমাদের কম-হ্যা:। ও তােমরা জানাে। আমরা শুকনাে দেশের লােক বুইলে না-সব সেখানে অন্যরকম, ভাবধারাই আলাদা আমাদের।

 আপনারা পড়ছেন গল্পের মূলভাব

এখানে না খেয়ে মারা যেতাম তােমরা না থাকলে বাবারা।” সংসার নির্বাহের জন্য কেশাে-বুড়াে আত্মজাকে তুলে দিয়েছে। ভােগবিলাসী যুবকদের কাছে। রুকু কোনাে প্রতিবাদ করেছে কিনা, তার স্বাক্ষর নেই গল্পে। কিন্তু রুকুর মা যে প্রতিবাদ করেছে, মেনে নেয়নি এই অনাচার, তা বােঝা যায় কেশাে-বুড়াের এই ভৎসনা থেকে-চুপ, চুপ, মাগী চুপ কর, কুত্তী-এবং সমস্ত চুপ হয়ে যায় সন্দেই নেই, বেঁচে থাকার জন্য আত্মজাকে এইভাবে ব্যবহার করতে গিয়ে কেঁপে উঠতাে কোে-বুড়াের মর্মলােক। তাই তিন যুবক ঘরে প্রবেশের সময় করবী গাছের বর্ণনা-দেন লেখক এই প্রতীকী ভাষ্যে- সবাই ভিতরে আসতে করবী গাছটার একটা ডাল ঝটকানি দেয়।’ ‘আত্মজা ও একটি করবী গাছ’ একটি প্রতীকী গল্প । করবী গাছটাই এখানে আর্ন্তজার প্রতীক।

করবী গাছে যে বিচি হয়, তা বিষের আধার,রুকুও তাে পিতা কেশে-বুড়াের কাছে চিরায়ত এক বিষকাণ্ড। তাই ঘুরে ঘুরে এ গল্পে আসে করবী গাছের কথা-গল্পের নামকরণ থেকে পরিণতি পর্যন্ত। করবী গাছটাই যে হয়ে ওঠে যন্ত্রণার উৎস, ওটাই যে রুকুর মর্মদাহী অস্তিত কোেবুড়াের হার্দিক বয়ানে উঠে এসেছে ভয়ানকভাবে- এখানে যখন এলাম-আমি প্রথমে একটা করবী গাছ লাগাই ফলের জন্যে। নয়, বুড়াে বলল, বিচির জন্যে, বুঝেছ করবী ফুলের বিচির জন্যে। চমৎকার বিষ হয় করবী ফুলের বিচিতে।’ বিশ্বযুদ্ধোত্তর কালে দেশবিভাগের ঝাপটায় মানুষের জীবনে বিপন্নতা দেখা দিয়েছিল নানাভাবে, দেখা দিয়েছিল মূল্যবােধের ভয়াবহ ধস। ইনাম ফেকুসুহাসের আচরণে, ভাষা ও ভাষ্যে এই ধসের ছবিই প্রকাশিত। সামাজিক ধস আর অবক্ষয়, দেশবিভাগজনিত মানবিক বিপন্নতার পাশাপাশি পুরুষতান্ত্রিকতার কাছে নারীর এই লাঞ্ছনাও বক্ষ্যমাণ গল্পটিকে করে তুলেছে কালােত্তীর্ণ। হাসান আজিজুল হকের ‘আত্মজা ও একটি করবী গাছ’ বিষয় ও বিন্যাসে অসামান্য এক শিল্পকুসুম। মানুষের বাঁচার সংগ্রাম কত মর্মদাহী হতে পারে, কেশাে-বুড়াের আধারে সে-কথাই ব্যক্ত হয়েছে বক্ষ্যমাণ গল্পে। প্রতিবেদনের অন্তঃস্রোতে প্রবহমাণ সামাজিক ভাবনা গল্পটিকে করে তুলেছে। | সমকালস্পর্শী, একই সঙ্গে কালােত্তীর্ণ ।।

আরো পড়ুনঃ সংস্কৃতির কথা প্রবন্ধের মূল বক্তব্য, বিষয়বস্তু, মূলভাব

এক নজরে আত্মজা ও একটি করবী গাছ গল্পের গল্পের বিশেষ কিছু প্রশ্ন ও উত্তর

প্রশ্নঃ আত্মজা ও একটি করবী গাছ কার লেখা?

উত্তরঃ আত্মজা ও একটি করবী গাছ গল্পের লেখক হাসান আজিজুল হকের।

প্রশ্নঃ আত্মজা ও একটি করবী গাছ pdf download

উত্তরঃ গল্পের সারমর্ম মূলভাব এবং আবাদের ওয়েবসাইটে ইতিমদ্ধে প্রকাশ করা হয়েছে তবে সম্পূর্ণ গল্প pdf আকারে ডাউনলোড করতে নিচের Download লেখাতে প্রেস করুন।

প্রশ্নঃআত্মজা ও একটি করবী গাছ গল্পের সারমর্ম

উত্তরঃ আত্মজা ও একটি করবী গাছ গল্পের সারমর্ম বা বিষয়বস্তু এই নিদন্ধের প্রথম থেকে পড়লে বুঝতে পারবেন। অসামান্য প্রতিভার এই কবি সাহিত্যিক তার সহজ সরল কথার মাধ্যমে অনেক কিছুর প্রকাশ ঘটিয়েছে।

Download

Shakil Daloar

Hello I'm Shakil Daloar I've completed my undergraduate and postgraduate degree from the Department of Economics at the National University and has been observing the economic, political, social and humanitarian aspects of the society since 2021. The attraction of people to the new is everlasting - so I write regularly on the study at home website.

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button