বাংলা

ডাহুক কবিতার মূল বিষয়বস্তু│ডাহুক করিতার মূলভাব

আজকে আমরা কথা বলবো কবি ফররুখ আহমদের লেখা জনপ্রিয় কবিতা ডাহুক নিয়ে। ডাহুক করিতার মূলভাব বা ডাহুক কবিতার মূল বিষয়বস্তু নিয়ে তাহলে চলুন শুরু করা যাক।

ডাহুক কবিতার মূল বিষয়বস্তু বা মূলভাব

বাহ্য জগতের অন্তরালে আধ্যাত্মিক চেতনার সম্মিলন ফররুখ আহমদের অনেক কবিতায় লক্ষ করা যায়। ডাহুক’ তার এমনি একটি গভীর অধ্যাত্মচেতনা সমৃদ্ধ কবিতা। ডাহুক গ্রামবাংলার অতি পরিচিত একটি পাখি। বিশেষ প্রজাতির এ জলজ পাখিটি বাড়ির আশপাশে ডােবার ধারে, ঝোপে জঙ্গলে বাস করে। সদা চঞ্চল এ পাখিটি আর পাঁচটি পাখির মতাে সচরাচর দৃশ্যমান হয় না।

লােকচক্ষুর আড়াল থেকে সে শুধু অশ্রান্ত ডেকে যায়। ডাহুক পাখিকে নিয়ে গ্রাম বাংলায় অনেক গল্পকাহিনী ছড়িয়ে আছে। ডাহুক প্রেমিক পাখি। কোন কারণে তার সঙ্গীবিচ্ছেদ ঘটলে সে অবিরাম ডেকে যায়। বিরহ যাতনায় ডাহুক ডেকে ডেকে আত্মাহুতি পর্যন্ত দেয়। ডাহুক একটি বিশেষ প্রজাতির পাখি হয়েও বিশিষ্ট কবি ফররুখ আহমদের অসাধারণ কবি প্রতিভার কালজয়ী একটি কবিতার আধার হয়ে উঠেছে। ইংরেজি সাহিত্যে স্কাইলার্ক পাখিকে অবলম্বন করে রচিত হয়েছে অনেক বিখ্যাত কবিতা। ওয়ার্ডসওয়ার্থ ও শেলির বিখ্যাত কবিতা ‘টু এ স্কাইলার্ক’। ইংরেজ কবিরা স্কাইলার্ক পাখির মুক্ত পাখায় ভর করে আত্মমুক্তির পথ খুঁজেছিলেন। বাংলা কাব্যে ফররুখ আহমদ ডাহুক পাখিকে আশ্রয় করে আত্মোপলব্ধি ও মুক্তির পথ খুঁজেছেন।

ডাহুক কবিতার মূল বিষয়বস্তু│ডাহুক করিতার মূলভাব
ডাহুক কবিতার মূল বিষয়বস্তু, মূলভাব

ডাহুকের সুর কবি হৃদয়ো এনে দিয়েছে এক অনাবিল প্রশান্তি। ডাহুকের ডাকে কবি উপলব্ধি করেছেন অতীন্দ্রিয় এক অনুভূতি। গভীর নিস্তব্ধ রাত্রি । সমস্ত প্রকৃতি অতল দ্রিায় আচ্ছন্ন। কবি জেগে আছেন একাকী। রাত্রির গভীরতা ভেদ করে ভােস আসে অশ্রান্ত ডাহুকের ডাক। কবির অন্তর্জগতে শুরু হয় আলােড়ন। এক ভিন্নতর আবেদন কবি হৃদয়ে দোলা দিয়ে যায় । ডাহুকের সুরে কবি খুঁজে পান ভিন্নতর ব্যঞ্জনা। ডাহুকের সুর রাগিনী সুরা স্রোত হয়ে কবিকে ভাসিয়ে নিয়ে যায় অন্য এক জগতে। মানবাত্মার চিরচেনা অথচ অচেনা সুরটিই কবি রাত জেগে শুনতে থাকেন ডাহুকের কণ্ঠে। অনাবিল প্রশান্তিতে ভরে যায় কবি হৃদয়। সুরের সুরার মত্ততায় কবি যেন মানবাত্মার মুক্তির পথ খুঁজে পান। ডাহুকের কণ্ঠে কবি শােনেন মুক্তির আহ্বান । ডাহুক মুক্তির প্রতীক। সংসারের জাতাকলে পিষ্ট মানুষ মুক্তি খোঁজে।

অতৃপ্তি অপ্রাপ্তির বেদনা তাকে ক্ষতবিক্ষত করে প্রতিনিয়ত। আত্মনিপীড়নে নিজেদের দগ্ধ করে চলেছে মানুষ। সকলে মুক্তি চায়; কিন্তু পথ জানা নেই। আর ঠিক তখনই কবি মুক্তির পথ খুঁজে পান ডাহুকের ডাকে। মুক্তপক্ষ নিভৃত ডাহুক তার পূর্ণ বুক রিক্ত করে ডাকতে পারলেও মানুষ পারে না। মুক্তির স্বাদ নিতে স্নান কদর্যের দলে ডাহুক নেই। স্বার্থচিন্তায় মানুষ নিজেদের দেহমন সব সময় শৃঙ্খলিত করে রাখে। ডাহুক শৃঙ্খলমুক্ত, পরিপূর্ণ তার জীবন। ডাহুকের ডাক শুনে প্রথমে কবির মনে হয়েছে ডাহুক এক অবিনাশী সুরের প্রতিমূর্তি। কিন্তু আবার পরক্ষণেই কবির মনে হয়েছে সে তত সুরযন্ত্র । সুরের উৎস অসীম । সে নিজে ডাকে না, অসীম সত্তার সুর

তার সুরযত্রে বেজে উঠে। রাত্রি গভীর হয়। একসময় চাঁদ নেমে আসে প্রাচীন অরণ্যতীরে। জীবন মৃত্যুর সম্মিলনে কবি বেদনায় নীল হয়ে পড়েন। জীবনের হিসাবনিকাশ আজ এলােমেলাে। ডাহুকের ডাক কবির চেতনালােকে আলােড়ন তােলে। মানুষের অসহায়ত্ব কবিকে ব্যাকুল করে তােলে। নিভৃতচারী ডাহুক কবিকে আজ স্মরণ করিয়ে দেয় জৈবিকতার প্রাকারে বন্দী মানুষের মুক্তি প্রায় অসম্ভব।

আরো পড়ুনঃ পথ জানা নাই গল্পের মূলভাব

পরিশেষে আমরা বলতে পারি, মানবতাবাদী কবি ফররুখ আহমদ ডাহুককে অবলম্বন করে মানবজীবনের এক গূঢ় রহস্যের প্রতি দৃষ্টিপাত করেছেন। মানবাত্মার চিরন্তন কামনা পরমাত্মার সান্নিধ্যলাড। কিন্তু মানুষের মুক্তি মেলে না। স্বার্থপরতা এবং পাপলিপ্ত কদর্য জৈবিকতার বুননে ভুলে যায় সে স্রষ্টার কথা। অবশেষে কবি আত্মশুদ্ধি ও আত্মানুশীলনের পথটি খুঁজে পান ডাহুকের একনিষ্ঠ সুরস্রোতে।

ডাহুক কবিতার বিশেষ কিছু প্রশ্ন উত্তর

প্রশ্নঃ ডাহুক সুরে কিসের ইঙ্গিত থাকে?

উত্তরঃ ডাহুক কবিতায় ডাহুকের সুরে অদৃশ্যলোকের অবিনাশী মহান শক্তির ইঙ্গিত থাকে।

প্রশ্নঃ ডাহুক কবিতায় ডাহুক কিসের প্রতীক?

উত্তরঃ ডাহুক চিরজাগ্রত বিবেক ও পবিত্র আত্মার প্রতীক।

Shakil Daloar

Hello I'm Shakil Daloar I've completed my undergraduate and postgraduate degree from the Department of Economics at the National University and has been observing the economic, political, social and humanitarian aspects of the society since 2021. The attraction of people to the new is everlasting - so I write regularly on the study at home website.

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button