বাংলা

নয়নচারা গল্পের প্রেক্ষাপট ও বিষয়বস্তু প্রশ্ন উত্তর

প্রিয় শিক্ষার্থীব্রিন্দু আজকে আমারা আধুনিক বাংলা সাহিত্যের একজন কথাশিল্পী সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর গল্প নয়নচারা নিয়ে আলচনা করবো। আমাদের এই নিবন্ধের মাধ্যমে জানতে পারবেন নয়নচারা গল্পের প্রেক্ষাপট ও বিষয়বস্তু এবং কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উত্তর নিয়ে যা আপনাকে নয়নচারা গল্প সম্পর্কে আরো কিছু জানতে সাহায্য করবে।

নয়নচারা গল্পের বিষয়বস্তু বা মূলভাব

নয়নচারা’ সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর একটি জীবনমুখী সামাজিক গল্প। গল্পটিতে কাহিনি বলতে তেমন কিছু না থাকলেও এটি গভীর বক্তব্যে পরিপূর্ণ। দুর্ভিক্ষতাড়িত একদল মানুষের প্রতিনিধি আমুকে আশ্রয় করে সেই বক্তব্য উপস্থাপিত হয়েছে। ময়ুরাক্ষী নদীতীরবর্তী নয়নচারা নামের গ্রামটি বন্যার পানিতে ভেসে গিয়েছে। সেখানকার বানভাসি মানুষ আশ্রয়হীন হয়ে পড়ার পর বাচার তাগিদে শহরে এসে ভিড় করেছে। কিন্তু কে তাদের আশ্রয় দেবে? শহরের হৃদয়হীন মানুষ নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত। এই বানভাসি মানুষগুলাে তাদের কাছে অনাকাক্ষিত উপদ্রব ছাড়া কিছুই নয়। কোথাও আশ্রয় না পেয়ে অসহায় মানুষগুলাে ফুটপাতে পড়ে আছে।

তাদের মাথার উপর আকাশের ছাদ। দুপুরের খা খা রােদ তাদের ক্ষুধার্ত শরীরকে তাতায় আর রাতের তারারা উঁকি ঝুঁকি মেরে তাদের সঙ্গে তামাসা করে। দিনের বেলা লঙ্গরখানা থেকে এদেরকে একবারের খাবার দেওয়া হয় বলে এরা এখনাে মরেনি। শহরের শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশে অনভ্যস্ত মানুষেরা রাত জেগে হাঁপায় আর ভাবে শহরে এতাে গরম কেন! কেন ময়ূরাক্ষীর শীতল হাওয়া এখানে নেই! এরা রাত জেগে জেগে ভাবে ময়ূরাক্ষীর কথা, ভাবে দিগন্ত জোড়া ধানক্ষেত আর রূপালি মাছের কথা। শহরের বুকে এদেরকে খুঁজে পাওয়া যায় না। লঙ্গরখানার একবেলার খাবারে এদের পেট ভরে না। উদ্বাস্তু মানুষেরা তাই শহরের পথে পথে খাদ্যের সন্ধানে ঘােরে। শহরের রাস্তার দুই পাশে সারি সারি দোকান। ময়রার দোকানে মাছি ভোঁ ভোঁ করে। দোকানের মালিকের চোখে কোমলতা নেই আছে পাশবিক হিংস্রতা। এদের চোখে এমন হিংস্রতা যে মনে হয় চারদিকের অন্ধকারের মধ্যে দুটি ভয়ঙ্কর চোখ ধক ধক করে জ্বলছে। একটা মুদির দোকানে কয়েক কাঁদি পাকা কলা ঝুলছে।

কলাগুলাের রং হলুদ। সেদিকে তাকিয়ে ক্ষুধার্ত উদ্বাস্তুদের। চোখ জুড়িয়ে যায়। রাস্তায় দাঁড়িয়ে আমু কলাগুলাের দিকে পলকহীন তাকিয়ে থাকে। আমুর মনে হয় ওগুলাে কলা নয়- হলুদ রঙের স্বপ্ন। কলাগুলাের দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে মনে মনে কেঁদে ওঠে আমু। আর ভাবে, কোথায় গাে, কোথায় গাে নয়নচারা গা! নয়নচারা গ্রামের সাথে শহরের সামান্যতম মিল খুঁজে না পেয়ে এরা হতাশ হয়- ভয় পায়। ছিন্নমূল মানুষগুলাে শহরে এসে একটা। ব্যাপার দেখে বিস্মিত হয়। এরা লক্ষ্য করে শহরের কুকুরগুলাের চোখে শত্রুতা নেই। কুকুরগুলাে এদেরকে দেখে তেড়ে আসে না। অথচ মানুষগুলাে কেমন তেড়ে তেড়ে আসে। রাতের বেলা কুকুরেরা তাদের আশপাশেই অবস্থান করে। কিন্তু এরা শত্রুতা করে না। অথচ দিনের বেলায় আমুরা যে মানুষদের কাছে সাহায্যের জন্য হাত বাড়ায় তারা খ্যাক খ্যাক করে তেড়ে ওঠে। শহরের এ মানুষদের চোখ শত্রুতায় ভরা।

নয়নচারা গল্পের প্রেক্ষাপট ও বিষয়বস্তু প্রশ্ন উত্তর নয়নচারা গল্পের ব্যাখ্যা

নয়নচারা গল্পের ব্যাখ্যা

এমন শক্রতা আমুরা দেখেছে গ্রামের কুকুরদের চোখে। এখানকার মানুষগুলােকে তাদের গ্রামের কুকুরদের মতাে হিংস্র মনে হয়। এদের অন্তরে দয়া নেই, মায়া নেই, মমতা নেই। এই অমানবিক অবস্থা দেখে আমু এই সিদ্ধান্তে উপনীত হতে বাধ্য হয় যে, গ্রামের কুকুর আর শহরের মানুষদের স্বভাব চরিত্র এক ও অভিন্ন। একদিন আমু ক্ষুধার্ত পেটে একটা খাবারের দোকানের সামনে গিয়ে দাঁড়ায়। দোকানের ভিতর থেকে বিভিন্ন রকম খাবারের সুগন্ধ ভেসে আসে তার নাকে। দোকানি আমুকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে কুকুরের মতাে তেড়ে আসে।

আমুর ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে যায়। সেও লােকটার উপর হিংস্রতা নিয়ে ঝাপিয়ে পড়ে। প্রচণ্ড মার খেয়ে আমু শহরের অচেনা রাস্তায় বেরিয়ে চলতে থাকে। অলি গলিতে ভরা এ রাস্তার যেন শেষ নেই। একবার আমু দার্শনিকের মতাে মনে মনে ভাবে যে পথের শেষ নেই, সে পথে চলে লাভ কী? চলতে চলতে ক্লান্ত শ্রান্ত আমু নিজেকে একটা বন্ধ দরজার সামনে দাঁড়ানাে দেখতে পায়। একটু পরে হঠাৎ খুলে যায় দরজাটা। মমতাময়ী এক গৃহবধূ বেরিয়ে এসে আমুকে কিছু খাবার দেয়। বিস্মিত আমু বধূটির মুখের দিকে তাকিয়ে ভাবে এ কেমন মেয়ে? শহরের অন্যান্য মানুষের সাথে তাে এর মিল নেই। এই মেয়ের মায়ের বাড়ি নিশ্চয়ই নয়নচারা গায়ে। নয়নচারা’ ছােটগল্পের কাহিনিতে শহরের মানুষদের যে চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য প্রকাশ পেয়েছে তা হৃদয়বিদারক। কাহিনিতে তাদের মনমানসিকতাকে কুকুরের চেয়েও হিংস্র বলে আমুর মনে হয়েছে। শহরে বসে সে যার কাছেই খাবারের জন্য হাত বাড়িয়েছে সেই তাকে কুকুরের মতাে তাড়িয়ে দিয়েছে।

সর্বগ্রাসী ক্ষুধা নিয়ে আমু মানুষের দুয়ারে দুয়ারে ঘুরেছে। কিন্তু কেউ তাদেরকে মানুষ বলে গণ্য করেনি। কেবল খেতে দেওয়া একটা মেয়েকে তার মানুষ বলে মনে হয়েছে এবং তার বদ্ধমূল ধারণা ওই মেয়েটির মায়ের বাড়ি নিশ্চয়ই নয়নচারা গায়ে। গ্রাম ও শহরের মানুষের মধ্যে মন-মানসিকতার যে আকাশ পাতাল পার্থক্য তা এই গল্পের কাহিনিতে বাস্তবতার নিরিখে তুলে ধরা হয়েছে। শহরের মানুষের হৃদয়হীনতার নীচতাকে গল্পকার চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়েছেন নয়নচারা’ গল্পে। নয়নচারা গল্পের প্রেক্ষাপট

আরো পড়ুনঃ একরাত্রি গল্পের বিষয়বস্তু, মূলভাব প্রশ্ন উত্তর

নয়নচারা গল্পের প্রশ্ন উত্তর

 

প্রশ্নঃ নয়নচারা গল্পের নদীটির নাম কী?

উত্তরঃ নয়নচারা গল্পের নদীর নাম “ময়ুরাক্ষী”।

প্রশ্নঃ নয়নচারা গল্পের লেখক কে?

উত্তরঃ নয়নচারা গল্পের লেখক আধুনিক বাংলা সাহিত্যের একজন কথাশিল্পী “সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ”।

প্রশ্নঃ নয়নচারা কোন শ্রেণীর রচনা?

উত্তরঃ নয়নচারা একটি “গল্প” ।

 

আশাকরি নয়নচারা গল্পের প্রেক্ষাপট বিষয়বস্তু এবং মূলভাব ভালভাবে বুখতে পেরেছেন আর কিছু জানার থাকলে নিচে কমেন্ট করে জানাতে পারেন। ধন্যবাদ………

Shakil Daloar

Hello I'm Shakil Daloar I've completed my undergraduate and postgraduate degree from the Department of Economics at the National University and has been observing the economic, political, social and humanitarian aspects of the society since 2021. The attraction of people to the new is everlasting - so I write regularly on the study at home website.

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button