অর্থনীতি

শ্রমের দক্ষতা কি? শ্রমের দক্ষতা নির্ধারক বিষয়সমূহ

আজকে বিষয় শ্রমের দক্ষতা কি? এবং শ্রমের দক্ষতা নির্ধারক বিষয়সমূহ নিয়ে। তাহলে চলুন শুরু করা যাক… শ্রমের দক্ষতা বলতে শ্রমিকের উৎপাদন ক্ষমতাকে বােঝায়। কমপক্ষে, দ্রব্যের গুণগত মান অক্ষুন্ন রেখে কোনাে নির্দিষ্ট সময়ে একজন শ্রমিকের অধিক উৎপাদন করার ক্ষমতাকে শ্রমের দক্ষতা বলা হয়। অর্থনীতিবিদ Saxena মনে করেন,
শ্রমের দক্ষতা হলাে কোনাে শ্রমিক নির্দিষ্ট সময়ে যে পরিমাণ কাজ সম্পাদন করতে পারে তাই ।
একই ভাবে অর্থনীতিবিদ Mehta বলেন,
শ্রমের দক্ষতা বলতে শ্রমিকের সামর্থ্যকে বােঝায়, যা মূলত উৎপাদনশীল।”
উপরিউক্ত সংজ্ঞা পর্যালােচনা করে বলা যায়, শ্রমের দক্ষতা বলতে বােঝায় শ্রমিকের (ক) কাজের অবস্থা (খ) উৎপাদনের পরিমাণ এবং (গ) উৎপাদনের গুণগত মান সুতরাং শ্রমের দক্ষতার সূত্র হলাে শ্রমের দক্ষতা=উন্নতমানের পণ্যদ্রব্যের মােট উৎপাদন /কাজের সময়।
শ্রমের দক্ষতা কি শ্রমের দক্ষতা নির্ধারক বিষয়সমূহ
শ্রমের দক্ষতা কি 

শ্রমের দক্ষতা নির্ধারক বিষয়সমূহ

শ্রমের দক্ষতা নিম্নোক্ত বিষয়গুলাের উপর নির্ভর করে। যথা : (ক) কাক্ত করার ক্ষমতা (খ) কাজ করার ইচ্ছা (গ) সংগঠনের নৈপুণ্য (ঘ) কারখানার অবস্থা (ঙ) যন্ত্রপাতির প্রকৃতি ও উৎপাদন প্রণালি (চ) সামাজিক নিরাপত্তা। নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলােঃ (ক) কাজ করার ক্ষমতা : শ্রমিকের কাজ করার ক্ষমতা অনেকগুলাে বিষয়ের উপর নির্ভরশীল। যেমন- ১। শারীরিক যােগ্যতা : যে শ্রমিকের শারীরিক যােগ্যতা উত্তম, তার কাজ করার ক্ষমতা অধিক। অন্যদিকে যে শ্রমিকের শারীরিক যােগ্যতা কম, তার কাজ করার ক্ষমতাও কম । ২। জীবনযাত্রার মান : যে সকল শ্রমিকের জীবনযাত্রার মান উন্নত, সে সকল শ্রমিকের কাজ করার ক্ষমতা বেশি। যেমন—কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, জার্মানি, অস্ট্রেলিয়ার শ্রমিকের জীবনযাত্রার মান উন্নত । তাই সে সকল দেশের শ্রমিকের কাজ করার ক্ষমতা বেশি। অন্যদিকে, বাংলাদেনসহ গরিব দেশগুলাের শ্রমিকের জীবনযাত্রার মান নিম্ন । তাই এ সকল দেশের শ্রমিকের কাজ করার ক্ষমতা কম। ৩। জলবায়ু ও শীতপ্রধান দেশের শ্রমিকদের দীর্ঘ সময়ের পরিশ্রমেও শরীর ক্লান্ত হয় না, কিন্তু গ্রীষ্মপ্রধান দেশে অল্পক্ষণ পরিশ্রমেই শ্রমিক ক্লান্ত হয়ে যায় । তাই বলা যায়, জলবায়ুর উপর শ্রমিকের কাজ করার ক্ষমতা নির্ভরশীল। ৪। জাতিগত গুণ : পৃথিবীতে অনেক জাতি রয়েছে যারা বংশানুক্রমে সুষম ও সবল দেহের অধিকারী । ৫। নৈতিক যােগ্যতা : শ্রমিকের নৈতিক যােগ্যতা যেমন বিশ্বস্ততা, সততা, কর্তব্যপরায়ণতা—এ সৰ গুণাবলির উপর কাজ করার ক্ষমতা নির্ভর করে। ৬। শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ : উপযুক্ত শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের দ্বারা শ্রমিকের বুদ্ধিবৃত্তির বিকাশ ঘটে, দক্ষতা বৃদ্ধি পায়। ৭। বুদ্ধিগত যােগ্যতা : শ্রমিকের বুদ্ধিগত যােগ্যতার উপরও শ্রমিকের কাজ করার ক্ষমতা নির্ভরশীল। যে সকল শ্রমিকের উপস্থিত বুদ্ধি, উদ্ভাবনী ক্ষমতা অধিক তারা কর্মক্ষেত্রে সাফল্য লাভ করে।

শ্রমের দক্ষতা নির্ধারক বিষয়সমূহ

(খ) কাজ করার ইচ্ছা ও শ্রমিকের কাজ করার ইচ্ছা নিম্নোক্ত বিষয়গুলাের উপর নির্ভর করে। যেমন— ১। শ্রমের বিশেষায়ণ । যে শ্রমিক যে কাজে দক্ষ তাঁকে সে কাজে নিয়ােগ করলে তার কর্মদক্ষতা বাড়ে এবং কাজের পরিমাণ ও উৎপাদিত দ্রব্যের মান বাড়ে। এ ধরনের কাজে নিয়ােগ পেতে শ্রমিক আগ্রহী থাকে। ২। কারখানার পরিবেশ : কারখানার পরিবেশ যদি মনােরম, স্বাস্থ্যকর হয়, শ্রমিক কাজ করে আনন্দ পায়। কিন্তু নােংরা পরিবেশ শ্রমিকের কর্মস্পৃহা হ্রাস করে। ৩। কাজের শর্ত । কাক্সের মজুরি, পদোন্নতির সম্ভাবনা, কাজের স্থায়িত্বতা, উত্তম কাজের ভান্য পুরস্কারের ব্যবস্থা,চিকিৎসা, নিরাপত্তা বিমা প্রস্তুতি শ্রমিকদের ইচ্ছা শক্তিকে নিয়ণ করে। ৪। নিরাপস্তামূলক ব্যবস্থা : অনেক সময় শ্রমিক কাজ করতে গিয়ে দুর্ঘটনায় পতিত হয়। এতে তার বন ও সম্পদ হুমকির সম্মুখীন হতে পারে। যেমন-বাংলাদেশে গার্মেন্টস কান্নথানায় সংঘটিত দুর্ঘটনা, বিমান-রেল- নৌচালক, বিদ্যুৎ চুল্লির রুটে কর্মরত শ্রমিক ইত্যাদি। এ ধরনের শ্রমিকদের ও তাদের পরিবারের জন্য বিভিন্ন নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করলে তাদের কাজ করার ইচ্ছা বৃদ্ধি পাবে। ৫। কাজের সময় ও শ্রমিকদের কাজের মাঝে উপযুক্ত বিশ্রাম ও বিরতি দেয়া প্রয়ােজন। এতে শ্রমিকের মানসিক সুশক্তি বৃদ্ধি পায় ও উত্তমরূপে কর্মে নিয়ােজিত হয়। ৬। শ্রমিক সংগঠন শ্রমিকদের কল্যাণার্থে সংগঠন গঠনের অনুমতি দেয়া হলে বা গড়ে নেয়া হলে শ্রমিকদের কাজ করার ইচ্ছা বা ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। এছাড়াও রয়েছে চিত্তবিনোদনের ব্যবস্থা, ভবিষ্যৎ উন্নতির সাবনা এবং উপযুক্ত মজুরি প্রভৃত্তির উপর শ্রমিকের কাজ করার ইচ্ছা নির্ভরশিল। (ক) সংগঠনের নৈপুণ্য : সংগঠনের নৈপুণ্যের উপরও শ্রমিকের দক্ষতা নির্ভরশীল। যে সংগঠনে যুদক্ষ সংগঠক রয়েছে, সে সময়মত প্রয়োজনীয় কঁচামাল ও যন্ত্রপাতির বােগন, উপকরণের সুসময়, শ্রমের বিশেথায়ণের মাধ্যমে শ্রমিকদের মাঝে কাজের সুপরিবেশ তৈরি করতে সক্ষম হয় এরূপ দক্ষ সংগঠকের অর্ধীনে যে কোনাে শ্রমিক নিয়ে লাভ করে তাদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে উৎসাহী হয়। (খ) কারখানার অবস্থা : কারখানার অবস্থা হতে কারখানার অভ্যন্ত্ররে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশ প্রতি বিষয়কে বােঝায় যার বর্তমানে শ্রমিকেরা স্বাচ্ছন্দ্যে কাজ করতে পারে। আরো পড়ুনঃ এসডিআর কি? What is SDR/Special Drawing rights? (ঙ) যন্ত্রপাতির প্রকৃতি ও উৎপাদন প্রণালি উৎপাদন কাজে আধুনিক ও উন্নতমানের যন্ত্রপাতি ব্যবহার করলে শ্রমিকের দক্ষতা ও কাজে উৎসাহ বৃদ্ধি পায়। (চ) সামাজিক নিরাপত্তা : পর্যাপ্ত সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা শ্রমিকের দক্ষতা বৃদ্ধিতে যথেষ্ট সাহায্য করে। কারণ শ্রমিকের অসুস্থতা, দুর্ঘটনা, বেকারত্ব ও বার্ধক্য প্রভৃতি ক্ষেত্রে সামাঞ্জিকভাবে আর্থিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করলে শ্রমিকেরা দায়িত্বে-কর্তব্যে কোনাে ফাঁকি না দিয়ে নির্ভ”র সাথে কাজ করে। আলােচনা থেকে এ সিদ্ধাঙ্কে পৌছা যায় যে, শ্রমের দক্ষতা অনেক বিষয়ের উপর নির্ভরশীল। শ্রমের দক্ষতা দেশের জন্য একটি বিরাট সম্পদ কারণ এর দ্বারা সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহারের মাধ্যমে জনসাধারণের জীবনযাত্রার মান।উন্নত হয়। জাপান, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, জার্মানিসহ উন্নত বিশ্বের উন্নয়নের মূলসূত্র হলাে, সেসব দেশের শ্রমিক শ্রেণি দক্ষ ও দেশপ্রেমিক। আশাকরি শ্রমের দক্ষতা কি তা বুঝতে পেরেছেন। আরো কিছু জানার থাকলে নিচে কমেন্ট করে জানাতে পারেন। ধন্যবাদ……

Shakil Daloar

Hello I'm Shakil Daloar I've completed my undergraduate and postgraduate degree from the Department of Economics at the National University and has been observing the economic, political, social and humanitarian aspects of the society since 2021. The attraction of people to the new is everlasting - so I write regularly on the study at home website.

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button